মুহুর্মুহু হামলার মাঝেও যেমন কাটছে ইরানিদের জীবন

আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ

ইরানে চলমান সংঘাতের এক মাস পার হতে না হতেই অনেক নাগরিক ধীরে ধীরে যুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করেছে। তাদের মধ্যে এক তরুণী বলেছেন, ‘বসন্তের সময়ে তেহরান এখনো সুন্দর।’

মঙ্গলবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে ইরানিদের যুদ্ধকালীন জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরেছেন সংবাদমাধ্যমটির পার্সিয়ান জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ঘোঞ্চেহ হাবিবিআজাদ। তিনি জানান, ইরানজুড়ে ইন্টারনেট বিভ্রাটের কারণে দেশটির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করাও এখন কঠিন।

তবে অনেকেই বিকল্প ইন্টারনেট সেবার মাধ্যমে উচ্চমূল্য দিয়ে সংযোগ স্থাপন করছেন।
নাম না প্রকাশ করে ইরানের রাজধানী তেহরানের এক তরুণী বলেন, ‘আমি ক্লান্ত এবং ভীষণ উদ্বিগ্ন। তেহরানে গত কয়েক দিন খুব ভয়াবহ কেটেছে। শুধু হামলার সংখ্যা নয়, শব্দও আরো ভয়ংকর মনে হচ্ছে।

’
তিনি আরো জানান, বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে তিনি সব সময় ফোন চার্জে রাখার চেষ্টা করছেন। দেশের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন থাকছেন তিনি।

পশ্চিম তেহরানের একটি বিউটি পারলারে কাজ করতেন মিনা। বিমান হামলায় তার কর্মস্থল ধ্বংস হয়ে গেছে।

সেই অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ঘুমাতে পারছিলাম না। জেট বিমানের শব্দ এত কাছ থেকে আসছিল যেন কানের পাশেই কিছু একটা ভোঁ-ভোঁ করছে। রাতভর সেগুলোর আসা-যাওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, ওগুলো ঠিক আমাদের মাথার ওপরই ঘুরছে।’
তেহরানের কাছাকাছি শহর কারাজে বসবাসরত আরেক তরুণ বলেন, ‘আমি আশা হারাতে শুরু করেছি।

কিন্তু যা হওয়ার তা-ই হচ্ছে। কোনো না কোনো সময় এই যুদ্ধ হতোই।’
তিনি আরো বলেন, ‘বহু বছর আগেই আমার ইরান ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু আমি যাইনি এবং এই দিনগুলো উপভোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’

৪০ বছর বয়সী আহমদ রেজা রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি ছোট চশমার দোকান চালাতেন। দীর্ঘ দিন ধরে তার তিলে তিলে গড়ে তোলা সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে এক বিমান হামলায়।

তিনি বলেন, ‘আমার সারা জীবনের সব সঞ্চয় শেষ। বছরের পর বছর ধরে যা কিছু গড়ে তুলেছিলাম, তা চোখের পলকে বিলীন হয়ে গেল। আমি যেসব চশমা আমদানি করেছিলাম, তার সবই পুড়ে ছাই। এখন আমার কাছে একগাদা চেক ছাড়া আর কিছুই নেই। জানি না, কিভাবে এগুলোর টাকা পরিশোধ করব।’

আরেক তরুণী বিবিসিকে বলেন, ‘আমি মাঝে মাঝে দিনের বেলায় বাইরে যাই। বসন্তের সময়ে তেহরান এখনো সুন্দর। আমি ধীরে ধীরে যুদ্ধের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি।’

এদিকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়লেও ধীরে ধীরে এক ধরনের ‘নতুন স্বাভাবিক’ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Share this news as a Photo Card

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: ⚠️⛔আপনি কপি করতে পারবেন না।
01 April 2026

মুহুর্মুহু হামলার মাঝেও যেমন কাটছে ইরানিদের জীবন

www.cumillaexpressnews.com