
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
মামলা-হামলা, কারাবরণ এবং পারিবারিক বিভিন্ন প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে কুমিল্লার দেবিদ্বারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতিতে সক্রিয় অবস্থান বজায় রেখেছেন উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মোল্লা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সততা, নিষ্ঠা ও ত্যাগের কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি এক আস্থার নাম হয়ে উঠেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের রাজনৈতিক উত্তাল দিনগুলোতে রাজপথে অগ্রভাগে ছিলেন জুয়েল মোল্লা। আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়ে একাধিকবার গুরুতর আহত হলেও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি তিনি। রাজনীতির পাশাপাশি তাঁর পরিবারকেও পোহাতে হয়েছে নানা নির্যাতন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে একাধিকবার কারাভোগ করতে হয়েছে তাঁকে ও তাঁর ছোট ভাই রুবেল মোল্লাকে। এমনকি কারাবাসের কারণে রুবেল মোল্লার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।
পরিবারের দাবি, টানা রাজনৈতিক হয়রানি ও বাবার আটকের ঘটনায় একপর্যায়ে তাঁদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে যায়। এসবের মধ্যে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে নেমে আসে বিচ্ছেদের বেদনা। তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনীতি থেকে পিছিয়ে যাননি এই যুবদল নেতা। সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানসহ প্রতিটি রাজনৈতিক আন্দোলনে তিনি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
জুয়েল মোল্লার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রদলের মাধ্যমে, যেখানে তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দেবিদ্বার উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
নিজের রাজনৈতিক ভাবনা ব্যক্ত করে জুয়েল মোল্লা বলেন, “দেশ ও দলের জন্য এখন কাজ করার উপযুক্ত সময়। দেশে গণতন্ত্র ফেরার পাশাপাশি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। সততা ও সাংগঠনিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আগামী দিনেও দেশ ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে চাই।”
তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, দেবিদ্বারে সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখতে এবং বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা বার্তা প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে জুয়েল মোল্লার মতো ত্যাগী নেতাদের বিকল্প নেই। রাজপথের এই অভিজ্ঞ নেতাকে আগামী দিনে মূল্যায়নের মাধ্যমেই সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।
© বাংলাদেশ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াধীন ™ এই সাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও কপি করা সম্পূর্ন বে-আইনি।