
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় সম্প্রতি আলোচিত ‘লেডি ডন’ হিসেবে পরিচিত লাইলীকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, লাইলী ও তার গড়ে তোলা একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ফাঁদে ফেলে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাইলী তার সহযোগীদের মাধ্যমে প্রথমে টার্গেট নির্ধারণ করতেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তুলে আপত্তিকর পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়া হতো। পরে সেই দৃশ্য ধারণ করে ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করা হতো। টাকা না দিলে ভিডিও বা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ চক্রের ফাঁদে পড়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ডজনখানেক স্থানীয় নেতাসহ ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও বিভিন্ন পেশাজীবী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অনেকেই সামাজিক মানসম্মানের ভয়ে বিষয়টি প্রকাশ করেননি, ফলে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পেরেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, লাইলীর নেতৃত্বে একটি সুসংগঠিত দল কাজ করতো। এই দলে নারী ও পুরুষ উভয় সদস্যই ছিল। কেউ টার্গেটের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতো, কেউ ভিডিও ধারণ করতো, আবার কেউ টাকা আদায়ের কাজে যুক্ত থাকতো।
সম্প্রতি ভুক্তভোগীদের একজন সাহস করে অভিযোগ দায়ের করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তে নামে। পরে অভিযান চালিয়ে লাইলীকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দেবিদ্বার থানার এক কর্মকর্তা জানান, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী ও তার চক্রের বিরুদ্ধে হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীদের অনেকে এখনো সামনে আসতে ভয় পাচ্ছেন। তবে পুলিশ সবাইকে আইনগত সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
এদিকে লাইলীর গ্রেফতারের খবরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা বাড়ানো এবং অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে সচেতন না হলে এ ধরনের অপরাধ বাড়তে পারে।
উপসংহার:
দেবিদ্বারের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সংগঠিত অপরাধ চক্র কীভাবে মানুষের ব্যক্তিগত দুর্বলতাকে পুঁজি করে ভয়ংকর ফাঁদ তৈরি করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
© বাংলাদেশ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াধীন ™ এই সাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও কপি করা সম্পূর্ন বে-আইনি।