
কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরতে শুক্রবার (০৫ জুন ২০২৬) বিকেলে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন ৬নং ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ সুমন।
অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, যুবসমাজ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন সিরাজুল ইসলাম, আব্দুল মতিন, দেলোয়ার হোসেন, মান্তু মিয়া, জসিম আহম্মেদ, ডা. আক্তারুজ্জামানসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সভায় বক্তারা বলেন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বৃক্ষনিধন, নদী দূষণ ও পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার কারণে বিশ্বব্যাপী নানা ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় রোধে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।
বক্তারা আরও বলেন, একটি সুস্থ, সুন্দর ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে সমাজের প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়েও বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তারা আগামী দিনে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ফতেহাবাদ ইউনিয়ন গড়ে তুলতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং এ লক্ষ্যে মোহাম্মদ সুমনের বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজক মোহাম্মদ সুমন বলেন, “একটি গাছ শুধু আমাদের অক্সিজেন সরবরাহ করে না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মাটি ক্ষয়রোধ, বায়ুদূষণ কমানো এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আজকের পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমাদের সবাইকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে। আমি প্রত্যেক নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানাই, অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করুন এবং সেটির পরিচর্যার দায়িত্ব নিন।”
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন কেবল একটি দিনের কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, জলাশয় রক্ষা এবং নিয়মিত বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
সভা শেষে অতিথিবৃন্দ ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বৃক্ষরোপণের উপকারিতা, পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়রা এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বলেন, সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে পরিবেশ রক্ষার কাজে সম্পৃক্ত করতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে উপস্থিত অতিথিরা মত প্রকাশ করেন।
© বাংলাদেশ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াধীন ™ এই সাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও কপি করা সম্পূর্ন বে-আইনি।