
কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ইউছুফপুর ইউনিয়নের পৈরাংকুল গ্রামে চলাচলের সরকারি খাস জমির রাস্তা দখল করে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ২০টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এ রাস্তা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তারা দ্রুত জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৈরাংকুল গ্রামের দক্ষিণ ফকির বাড়ি ও শেখ বাড়ির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের জেরে সম্প্রতি শেখ বাড়ির কয়েকজন বাসিন্দা চলাচলের জন্য ব্যবহৃত রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। এতে পুরো এলাকার স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রায় দুই যুগেরও বেশি আগে সরকারি খাল ভরাট করে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে প্রায় ২০ ফুট প্রশস্ত ও প্রায় ৫০০ ফুট দীর্ঘ একটি রাস্তা নির্মাণ করেন। ওই রাস্তা মসজিদ, কবরস্থান, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ আশপাশের শতাধিক মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের একমাত্র সহজ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি রাস্তার একাংশে বাঁশ, ঝাঁটা, কাঁটাতার ও ইটের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। পাশাপাশি অপর অংশে আবাসন নির্মাণ করে রাস্তার স্বাভাবিক প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ অবস্থায় স্থানীয় মুসল্লিদের মসজিদে যেতে অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। একইভাবে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন, রোগী আনা-নেওয়া এবং জরুরি সেবা গ্রহণে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জানাজা ও লাশ দাফনের মতো জরুরি সামাজিক কার্যক্রমেও এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে জানান তারা।
ভুক্তভোগী একাধিক পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বছরের পর বছর ধরে এই রাস্তা ব্যবহার করে আসছি। হঠাৎ করে এটি বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করে দ্রুত চলাচলের রাস্তা পুনরুদ্ধার করা হোক এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের দখলদারিত্ব করতে না পারে।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সল উদ্দিন জানান, সরকারি খাস জমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের অনুমতি পাওয়া মাত্রই পূর্ণাঙ্গ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং জনসাধারণের চলাচলের পথ পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করে তাদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করবে এবং দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান ঘটাবে।
© বাংলাদেশ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াধীন ™ এই সাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও কপি করা সম্পূর্ন বে-আইনি।